সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী দিচ্ছে?
সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী দিচ্ছে? একটা সময় ছিল, যখন মানুষের
দিন শুরু হতো পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে, আর দিন শেষ হতো গল্প, আড্ডা আর
হাসিতে। আজ সেই জায়গার বড় একটা অংশ দখল করে নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ঘুম থেকে উঠেই
মোবাইল ফোন, নোটিফিকেশন চেক, ফেসবুক স্ক্রল, ইউটিউব দেখা এগুলো এখন অনেকের
দৈনন্দিন অভ্যাস। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এই সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী দিচ্ছে? আমরা কি সত্যিই
উপকার পাচ্ছি, নাকি অজান্তেই অনেক কিছু হারাচ্ছি? নিচে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন
দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো, যেখানে প্রতিটি অংশ আলাদা করে ব্যাখ্যা করা
হয়েছে।
সূচিপত্র/ সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী দিচ্ছে?
- যোগাযোগের সহজতা কাছে আনা মানুষ, দূরে সরানো সম্পর্ক
- তথ্যের সহজলভ্যতা জ্ঞানের দরজা নাকি বিভ্রান্তির উৎস?
- লাইক, কমেন্ট আর স্বীকৃতির নেশা
- তুলনার সংস্কৃতি সাজানো জীবন বনাম বাস্তবতা
- ইনকাম ও সুযোগের প্ল্যাটফর্ম
- মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
- ব্যবহারকারীর দায়িত্ব ও ভারসাম্য
- শেষ কথা/সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী দিচ্ছে?
যোগাযোগের সহজতা কাছে আনা মানুষ, দূরে সরানো সম্পর্ক
সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো যোগাযোগের সহজতা। আজ পৃথিবীর যেকোনো
প্রান্তে থাকা মানুষটির সাথে মুহূর্তের মধ্যেই যোগাযোগ করা যায়। প্রবাসে থাকা
আত্মীয়, বহুদিনের পুরোনো বন্ধু কিংবা দূরে থাকা প্রিয় মানুষ সবাই এখন এক ক্লিক
দূরত্বে। ভিডিও কল, ভয়েস কল, ইনবক্স মেসেজ এই সুবিধাগুলো আমাদের যোগাযোগ
ব্যবস্থাকে অনেক দ্রুত এবং সহজ করে তুলেছে। কিন্তু এই সহজ যোগাযোগের আড়ালে তৈরি
হয়েছে এক ধরনের দূরত্ব।
আমরা অনলাইনে কথা বলছি ঠিকই, কিন্তু মুখোমুখি বসে কথা বলার অভ্যাস কমে যাচ্ছে।
একই ঘরে থাকা মানুষগুলোও আলাদা আলাদা স্ক্রিনে ডুবে থাকে। পরিবারে সময় কাটানোর
বদলে সবাই নিজের নিজের ফোনে ব্যস্ত। আগে মানুষের অনুভূতি বোঝা যেত চোখের ভাষা আর
আচরণে, এখন সেটা সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ইমোজি আর শর্ট রিপ্লাইয়ে।
অনেক সময় দেখা যায় অনলাইনে আমরা অনেক মানুষের সাথে কানেক্টেড, কিন্তু বাস্তবে
আমরা একা। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের মানুষকে কাছে আনার সুযোগ দিলেও, সম্পর্কের
গভীরতা অনেক ক্ষেত্রে কমিয়ে দিচ্ছে। তাই যোগাযোগের এই সহজতা উপভোগ করার পাশাপাশি
বাস্তব সম্পর্কের যত্ন নেওয়াটাও সমান জরুরি।
তথ্যের সহজলভ্যতা জ্ঞানের দরজা নাকি বিভ্রান্তির উৎস?
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের সামনে তথ্যের বিশাল দরজা খুলে দিয়েছে। শিক্ষা, সংবাদ,
প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার যে কোনো বিষয়ে এখন অসংখ্য তথ্য পাওয়া যায় কয়েক
সেকেন্ডেই। ইউটিউব ভিডিও দেখে নতুন স্কিল শেখা, ফেসবুক গ্রুপ থেকে অভিজ্ঞতা নেওয়া
কিংবা অনলাইন কোর্সের খবর পাওয়া এসব সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ। কিন্তু এই
তথ্যের সহজলভ্যতার সাথে সাথে এসেছে বড় এক সমস্যা ভুল তথ্য ও গুজব। সোশ্যাল
মিডিয়ায় অনেকেই যাচাই না করেই খবর শেয়ার করে। ভুয়া সংবাদ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং
মানুষ সেটাকে সত্য বলে ধরে নেয়।
এতে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়
ভয় বা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি সমস্যা হলো অতিরিক্ত তথ্য। এত বেশি কনটেন্টের
ভিড়ে কোনটা দরকারি আর কোনটা নয় এটা বাছাই করাও কঠিন হয়ে যায়। ফলে আমরা অনেক সময়
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বদলে অপ্রয়োজনীয় জিনিসেই বেশি মনোযোগ দিই। সোশ্যাল মিডিয়া
জ্ঞান বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, তবে সেটা নির্ভর করে আমরা কীভাবে
এবং কতটা সচেতনভাবে তথ্য গ্রহণ করছি তার উপর।
লাইক, কমেন্ট আর স্বীকৃতির নেশা
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনে নতুন এক ধরনের মানসিক নির্ভরতা তৈরি করেছে লাইক,
কমেন্ট আর ভিউয়ের উপর নির্ভরতা। একটি পোস্ট দেওয়ার পর আমরা বারবার ফোন চেক করি,
কতজন লাইক দিলো, কে কমেন্ট করলো। পোস্টে রিচ কম হলে মন খারাপ হয়, আর বেশি লাইক
পেলে অকারণ খুশি কাজ করে। এই প্রবণতা ধীরে ধীরে আমাদের আত্মমূল্যবোধকে দুর্বল করে
দেয়। আমরা নিজের যোগ্যতা বা কাজের মান বিচার করি অন্য মানুষের প্রতিক্রিয়ার
মাধ্যমে। বাস্তব জীবনে কেউ আমাদের প্রশংসা করুক বা না করুক, অনলাইনের লাইকই হয়ে
ওঠে প্রধান বিষয়।
এতে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং মানসিক চাপ বাড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই
স্বীকৃতির নেশায় বেশি আক্রান্ত। তারা ভাবে অনলাইনে জনপ্রিয় না হলে যেন তারা
মূল্যহীন। অথচ বাস্তব জীবনের সাফল্য আর ভালো মানুষ হওয়া কখনোই লাইক কমেন্ট দিয়ে
মাপা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার সময় এই বিষয়টি বোঝা খুব জরুরি, নাহলে
আমরা নিজের অজান্তেই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।
তুলনার সংস্কৃতি সাজানো জীবন বনাম বাস্তবতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ সাধারণত নিজের জীবনের সুন্দর এবং সুখের দিকগুলোই শেয়ার
করে। নতুন গাড়ি, ভ্রমণ, সাফল্য, হাসিখুশি মুহূর্ত এসব দেখে মনে হয় সবার জীবনই
নিখুঁত এবং চমৎকার। কিন্তু আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, এগুলো জীবনের পুরো চিত্র নয়।
এগুলো শুধুমাত্র বেছে নেওয়া কিছু মুহূর্ত, যা বাস্তব জীবনের সমগ্র গল্পকে
প্রতিফলিত করে না। এই সাজানো জীবনের সাথে নিজের সাধারণ জীবন তুলনা করেই অনেক
মানুষ হতাশা, হীনমন্যতা এবং মানসিক চাপ অনুভব করে। মনে হয়, আমার জীবন কেন এত
সাধারণ? আমি কেন ওদের মতো সফল নই? এই ধরনের চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস
কমিয়ে দেয় এবং মানসিক অশান্তি তৈরি করে।
বাস্তবতা হলো প্রতিটি মানুষের জীবনেই থাকে সমস্যা, কষ্ট এবং ব্যর্থতা, যা খুব কমই
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তাই অন্যের অনলাইন জীবনকে নিজের বাস্তব জীবনের সাথে
তুলনা করা একেবারেই অযৌক্তিক। অন্যদের অর্জন দেখে হতাশ না হয়ে, নিজের লক্ষ্য,
পরিশ্রম এবং স্বপ্নের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই বিষয়টি বোঝা গেলে সোশ্যাল
মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতন ব্যবহার এবং বাস্তব জীবনের
সাথে ভারসাম্য রক্ষা করলেই আমরা এই তুলনার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকতে পারি।
ইনকাম ও সুযোগের প্ল্যাটফর্ম
সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এটি অনেক মানুষের জন্য আয়ের একটি
গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক ব্যবহার
করে ঘরে বসেই আয় করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যেসব প্রতিভা বা দক্ষতা শুধুমাত্র নিজের
মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, এখন সেগুলো সহজেই সবার সামনে তুলে ধরা যাচ্ছে। এটি অনেকের
জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলেছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং
করছে। গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কপিরাইটিং এর মতো কাজের
ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়া এখন অনেক সহজ। কেউ কেউ নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করে ইউটিউব বা
অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে দর্শক বাড়াচ্ছে, যা ধীরে ধীরে আয়ের সুযোগও বৃদ্ধি
করছে।
ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও সোশ্যাল মিডিয়া আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ফেসবুক পেজ বা
ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ঘরে তৈরি খাবার, পোশাক, হ্যান্ডিক্রাফট বা অন্যান্য পণ্য
বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ
অনেক সহজ হয়েছে। তবে এই সব সুযোগ কাজে লাগাতে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা
অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় সফলতা রাতারাতি আসে না। নিয়মিত চেষ্টা, নিজের দক্ষতা
বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত কাজই এখানে সফলতার চাবিকাঠি। সুযোগ আছে, কিন্তু তা কাজে
লাগানো সম্পূর্ণ আমাদের উপর নির্ভর করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নানাভাবে
নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার অভ্যাস ধীরে ধীরে মানুষের
মনোযোগ কমিয়ে দেয়। কাজ বা পড়াশোনায় ঠিকমতো মন বসে না, অল্প সময়েই বিরক্ত লাগতে
শুরু করে। অনেকের ক্ষেত্রে রাত জেগে ফোন ব্যবহার করার কারণে ঘুমের সমস্যা দেখা
দেয়, যা শরীর ও মনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের জীবন দেখার
ফলে নিজের জীবনের সাথে অকারণে তুলনা শুরু হয়। কেউ ভালো চাকরি করছে, কেউ ঘুরতে
যাচ্ছে, কেউ সফল হচ্ছে এই সব দেখে মনে হয় নিজের জীবন যেন পিছিয়ে আছে। এই তুলনা
থেকেই হতাশা, হীনমন্যতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে
এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্য, ট্রল বা
অনলাইন ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লে মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়।
অনেক সময় এসব বিষয় নিয়ে আমরা অকারণে চিন্তা করতে থাকি, যা উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার
কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে মানুষ নিজের মধ্যেই গুটিয়ে যেতে শুরু করে এবং
একাকিত্ব অনুভব করে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতন হওয়া খুব জরুরি।
নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ফোন ব্যবহার না করা, প্রয়োজন হলে ডিজিটাল ব্রেক নেওয়া এবং
বাস্তব জীবনের মানুষের সাথে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
পরিবার, বন্ধুদের সাথে কথা বলা, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো বা নিজের পছন্দের কাজে
মন দেওয়া মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। সবশেষে বলা যায়, সোশ্যাল মিডিয়া
আমাদের জীবনের অংশ হলেও সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা আমাদেরই দায়িত্ব। সঠিক ব্যবহার
মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যবহারকারীর দায়িত্ব ও ভারসাম্য
সোশ্যাল মিডিয়া নিজে থেকে ভালো বা খারাপ কিছু নয়। এটি একটি মাধ্যম, যার প্রভাব
পুরোপুরি নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উপর। আমরা যদি সচেতনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া
ব্যবহার করি, তাহলে এটি আমাদের শেখার সুযোগ, যোগাযোগের সুবিধা এবং ক্যারিয়ার গড়ার
পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু যদি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহার করি, তাহলে একই জিনিস
আমাদের সময়, মনোযোগ ও মানসিক শান্তি ধীরে ধীরে কেড়ে নিতে পারে। তাই সোশ্যাল
মিডিয়া ব্যবহারে ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। এর মানে এই নয় যে একেবারে
ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে। বরং শেখার জন্য, প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য এবং
দরকারি মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য ব্যবহার করাই হলো সচেতন ব্যবহার। অকারণে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করা, অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা করা কিংবা
নেতিবাচক কনটেন্টে জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে চলা উচিত।
পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, বন্ধু ও কাছের
মানুষদের সাথে সময় কাটানো আমাদের মানসিকভাবে শক্ত রাখে। পড়াশোনা, কাজ ও শারীরিক
স্বাস্থ্যের দিকেও সমান মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং মাঝে
মাঝে ডিজিটাল ব্রেক নেওয়া আমাদের জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। যদি আমরা
সোশ্যাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, তাহলে এটি আমাদের জন্য একটি উপকারী ও
ইতিবাচক মাধ্যম হতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারালে এটি ধীরে ধীরে আমাদের অভ্যাস,
চিন্তাভাবনা এবং জীবনযাত্রাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই দায়িত্বশীল
ব্যবহারই হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভালো কিছু পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়।
শেষ কথা/সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী দিচ্ছে?
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের অনেক কিছু দিচ্ছে যোগাযোগ, তথ্য, সুযোগ এবং বিনোদন। আবার
অনেক কিছু কেড়েও নিচ্ছে সময়, মনোযোগ এবং মানসিক শান্তি। তাই প্রয়োজন সচেতনতা,
ধৈর্য এবং ভারসাম্য বজায় রাখা। স্ক্রিনের ভেতরের জীবন নয়, স্ক্রিনের বাইরের জীবনই
আসল। পরিবার, বন্ধু এবং নিজের দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্যে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করো, এর সুবিধা নাও কিন্তু নিজেকে হারিয়ে ফেলো না এবং
বাস্তব জীবনের মূল্য বুঝতে শিখো।
নিজের সময়, মানসিক শান্তি এবং সম্পর্ককে প্রাধান্য দিলে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের
জন্য সত্যিই একটি উপকারী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আমাদের কী
দিচ্ছে? পড়ে যদি আপনাদের ভালোলাগে তাহলে অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাবেন
এবং আমার এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।



বারী বিডি আইটি র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url